
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
হালুয়াঘাটের ধুরাইল বাজারে শনিবার সকাল থেকে মুখরিত ছিল জনআন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) –যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন ও পথসভা করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—সৌহার্দ্য, সাম্য ও সততার রাজনীতি ফিরিয়ে আনা।
প্রিন্স শুরুতেই ধুরাইল বাজারে গণসংযোগ করেন এবং জনসাধারণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির জাতীয় কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা এবং জনকল্যাণ ও হালুয়াঘাটের উন্নয়নে দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করেন।
পথসভায় তিনি বলেন, “আমরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, জনগণের প্রতি সহনশীলতা ফিরিয়ে আনব। ধর্মীয় উগ্রতা নয়, দেশজুড়ে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করব। বর্ণভেদ নয়, বরং সকলের জন্য সাম্য নিশ্চিত করব।”
প্রিন্স আরও বলেন, “বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে, কিন্তু উন্নয়ন নিয়ে রাজনীতি করে না। আমরা আওয়ামী লীগের মতো লুটপাট করি না, বরং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করব।” তিনি জনগণের সঙ্গে সরাসরি অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমি যদি নির্বাচিত হই, ক্ষমতা আপনার হাতে থাকবে। উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, বাস্তবায়ন ও তদারকি আপনার সঙ্গে পরামর্শে করা হবে।”
তিনি আরও ঘোষণা করেন, প্রতি ১০০ দিনে হালুয়াঘাটে ‘জনতার সংসদ’ বসানো হবে, যেখানে নির্বাচনে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষও উপস্থিত থাকবে এবং তাদের মতামত গ্রহণ করা হবে। “আমি এককভাবে কাজ করব না, বরং আপনারা আমাকে পরিচালিত করবেন,” প্রিন্স বলেন।
পথসভায় প্রিন্স হালুয়াঘাটে বাস্তবায়নযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’, ইউনিয়নের বাজারে সরকারী ধান ক্রয় কেন্দ্র, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ মাধ্যমে পরিবারের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী, শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য ‘বেকার ভাতা’, ক্ষমতায় আসার ১৮ মাসে ‘নতুন এক কোটি কর্মসংস্থান’, কৃষি–মৎস্য–পোল্ট্রি বীমা এবং সকলের জন্য মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা।
তিনি বলেন, “হালুয়াঘাটকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব। জনগণ যদি আমাদের সাথে থাকে, তাহলে কোনো শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না।”
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, যুগ্ম আহ্বায়ক চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন আহমেদ, জেলা যুব দলের সহ-সভাপতি তারিকুল ইসলাম চঞ্চল, বিএনপি নেতা প্রিন্সিপাল এখলাস উদ্দিন, প্রভাষক মাসুম বিল্লাহ, সরোয়ার জাহান, বদরুল আহসান খান, গোলাম মোস্তফা মাস্টার, মনজুরুল হক, এমদাদ হোসেন মেম্বার, ক্বারী আলমাস হোসেন।
সন্ধ্যায় শহরের কেন্দ্রীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন প্রিন্স। হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষ ধর্মীয় আচার অনুযায়ী প্রার্থনা করেন এবং সাম্য ও সহমর্মিতার বার্তা তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রিন্সের এই পথসভা শুধু প্রতিশ্রুতির নয়, বরং হালুয়াঘাটবাসীর কাছে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব প্রদানের একটি প্রতীক হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
বিএনপি একদিকে দলীয় সংগঠনের পুনর্গঠন ও জাতীয় কাঠামোর শক্তি পুনরুদ্ধার করতে চাইছে, অন্যদিকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে—উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে। হালুয়াঘাট আজ সেই প্রতিশ্রুতি শুনেছে; এখন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নে।






















