
আব্দুল হক লিটন ঃ
“বিএনপি কখনো পরিশ্রমী কর্মীদের সঙ্গে বেইমানি করে না”— এমন স্পষ্ট বার্তা নিয়ে ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়নের কর্মী সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন বিএনপি নেতা ও শিক্ষাবিদ মোঃ মাসুম বিল্লাহ। তিনি বলেন, “যারা দুঃসময়ে রাস্তায় ছিলেন, মামলা-হামলা সহ্য করেছেন, নীরবে দলকে শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন—তাদের কখনোই ভুলে যায় না বিএনপি।”
এই মননশীল ও প্রত্যয়ী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ধুরাইল ইউনিয়ন পর্যায়ের এক প্রাণবন্ত কর্মী সমাবেশ। এতে সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবু হাসান বদরুল কবীর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।
সমাবেশে বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন— ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পুরো আয়োজনজুড়ে উঠে আসে একটি কথা— “ত্যাগীরা অবহেলিত নয়, তারাই বিএনপির মেরুদণ্ড।”
মোঃ মাসুম বিল্লাহ শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীই নন, তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সংগঠক ও সমাজসেবক। তার রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু হয় ছাত্রদল দিয়ে— তিনি ছিলেন ১০ নম্বর ধুরাইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি।
এরপর তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন যুবদল ময়মনসিংহ উত্তর জেলার সহ-সভাপতি, হালুয়াঘাট উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জিয়া মঞ্চ ময়মনসিংহের সদস্য এবং বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। একইসঙ্গে তিনি পাবিয়াজুরী স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি, বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, নাগরিক আন্দোলন কমিটি ময়মনসিংহের সদস্য এবং বিভাগীয় প্রেসক্লাব ময়মনসিংহেরও সক্রিয় সদস্য।
তিনি পেশাগতভাবে ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজের একজন প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তাকে নিয়ে হালুয়াঘাট বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর অভিমত, “মাসুম ভাই এককথায় দলপ্রেমী, তিনি দুঃসময়ের নির্ভরতা, সংগঠনের নিবেদিত কর্মী।” উল্লেখযোগ্যভাবে, তার বিরুদ্ধে রয়েছে চারটি রাজনৈতিক মামলা—যা তার রাজপথের সংগ্রামের প্রমাণ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “দলীয় কর্মকাণ্ডে যারা জীবন উৎসর্গ করেছে, তাদের আর অবমূল্যায়নের সুযোগ নেই। দল ক্ষমতায় থাক বা না থাক, মাঠের পরিশ্রমীরা সব সময় সম্মানিত হবেন।”
এমন বার্তায় কর্মীদের চোখেমুখে দেখা যায় নতুন প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাসের ঝিলিক। কেউ কেউ বলেন, “আমাদের কষ্ট দল দেখছে, আমাদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে, এতেই আমরা অনুপ্রাণিত।”
দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা বিএনপি এখন যেন তৃণমূলে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। নেতাদের মুখে মাঠকর্মীদের মূল্যায়নের বার্তা নিঃসন্দেহে একটি কৌশলগত অগ্রগতি। আর মাসুম বিল্লাহের মতো নেতার সামনে এসে কথা বলার মাধ্যমে সাধারণ কর্মীরা নিজেদের ভরসা খুঁজে পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা মাঠ যেন পরিণত হয়েছিল মাসুম বিল্লাহর কর্মীদের উচ্ছ্বাসের উৎসবে। গোলাপি রঙের টুপি পরে শত শত কর্মী পুরো মাঠ দখলে রেখেছিলেন, যা চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে যখন মাসুম বিল্লাহ মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করেন, তখন মুহূর্তেই চারপাশ জুড়ে উল্লাস ও করতালির ঝড় ওঠে। তার একনিষ্ঠ কর্মীদের উপস্থিতি এতটাই ব্যাপক ছিল যে, কর্মী সমাবেশ না হলে বোঝার উপায় ছিল না মানুষ তাকে কতটা ভালোবাসে এবং কতটা সম্মান করে। এই দৃশ্যই প্রমাণ করে—দীর্ঘদিনের রাজপথের সংগ্রাম, সততা আর সাংগঠনিক নিষ্ঠার ফলস্বরূপ, মাসুম বিল্লাহ আজ শুধু একজন নেতা নন, বরং একটি ভালোবাসার নাম কর্মীদের হৃদয়ে।
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়েও যারা সত্যিকারের পরিশ্রম করেছে, তাদের প্রতি দলীয় শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি বরাদ্দ করাই আজকের রাজনীতির জন্য সবচেয়ে জরুরি—আর ধুরাইলের এই কর্মী সমাবেশ সেই দৃষ্টান্তই তুলে ধরলো।






















