
উবায়দুল্লাহ রুমি, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
“মানুষের সবচেয়ে প্রিয় আশ্রয় তার ঘরবাড়ি, জমি। আর সেই আশ্রয় হারালে মানুষ বেঁচে থাকার ইচ্ছাও হারায়। এই কথাগুলোই যেন প্রতিদিন কাঁদতে কাঁদতে উচ্চারণ করছেন ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চর পুবাইল গ্রামের দুই ভাই মোস্তাদুল হক ও মোজাম্মেল হক।
জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে জমি কিনেছিলেন তারা। ভেবেছিলেন, নতুন ঘর তুলবেন, পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে থাকবেন। কিন্তু নয় বছরের দীর্ঘ সময়েও সেই জমির মালিকানা পাননি। ক্রেতা হয়েও মালিকানা না পেয়ে আজ তারা দিশেহারা। জানালেন,
আর কতোদিন প্রতারণার শিকার হবো? জমি না পেলে স্বপরিবারে আত্মহত্যা ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।
২০১৫ সালের নভেম্বরে বাড়ি নির্মাণের স্বপ্নে দুই ভাই বিক্রি করেন তাদের পূর্বের বসতভিটা। ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছিলেন চর পুবাইল মৌজার ১৫ শতক জমি। সঞ্চয়-স্বপ্ন আর সংসার ভেঙে জমি কিনলেও মালিকানা মেলেনি আজও।
অভিযুক্ত বিক্রেতা মস্তোফা কামালের দাবি, জমির দাগ নম্বরে ত্রুটি থাকায় রেজিস্ট্রি করা যাচ্ছে না। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, এটি কেবলই অজুহাত। বছরের পর বছর টালবাহানা করে ভুক্তভোগী পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছেন তিনি।
দুই ভাই এখন সামান্য কাঁচামালের ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালান। না আছে মাথা গোঁজার ঠাঁই, না আছে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। জমির মালিকানা না পেয়ে হতাশার দোলাচলে তাদের পরিবার একেবারে ভেঙে পড়েছে।
পাশের বাড়ির লোকজন জানান,এরা গরিব মানুষ। দিনের পর দিন কাঁদছে। অথচ ক্ষমতাশালীরা চুপ। প্রশাসনও নীরব। এভাবে চলতে থাকলে সত্যিই একদিন স্বপরিবারে আত্মহত্যা করবে ওরা।
এ ঘটনার দীর্ঘ নয় বছর কেটে গেলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও মুখে ন্যায়ের বুলি আওড়ালেও মাঠে নামেননি। ফলে অসহায় পরিবারটির দুঃখ-হাহাকার থেকে গেছে গ্রাম্য আঙিনার সীমানায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাধিক নেতাকর্মীরা বলছেন, একটি পরিবারের স্বপ্ন যখন দিনের আলোতে চুরি হয়ে যায়, তখন প্রশাসন কেন অন্ধ থাকে? জনপ্রতিনিধিরা কি শুধু ভোটের সময় মানুষকে খুঁজে পান?
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি এলাকাবাসীর আহ্বান, অবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান করুন। না হলে একটি পরিবারের করুণ পরিণতি আমাদের সবার বিবেককে নাড়া দেবে।
নয় বছর ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত দুই ভাই এখন নীরব আর্তনাদের প্রতীক। তাদের স্বপ্নভঙ্গের গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং গোটা সমাজের প্রতি এক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। ন্যায়বিচার কি সত্যিই সবার জন্য সমান, নাকি গরিবের কপালে শুধু প্রতারণা আর হতাশা?






















