
মোঃ আব্দুল হক লিটন
নেত্রকোনার মহেশকোনা ও আশপাশের এলাকায় তরুণদের দায়িত্ববোধ, মানবসেবা এবং দ্বীনি চেতনাকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলা সংগঠন আবাবিল ইসলামী যুব সংগঠন নতুন পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আরও সংগঠিতভাবে সমাজ উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
গত শুক্রবার রাত ৮টা ৩০ মিনিটে দয়াগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বিশেষ বৈঠকটি যেন তরুণদের ঐক্য, নিষ্ঠা ও মানবসেবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সমাজে পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়া সংগঠনটির সদস্য সংখ্যাও বাড়ছে ক্রমাগত। বর্তমানে সংগঠনে ৯৮ জন তরুণ সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। বৈঠকে জানানো হয়, এই তরুণ শক্তিকে নিয়ে আগামী দিনে আরও নিয়মিত, সুসংগঠিত এবং বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যা সাধারণ মানুষের উপকারেই ব্যবহৃত হবে।
বৈঠকে প্রথমেই সিদ্ধান্ত হয় যে, আগামী ৯ই ডিসেম্বর সদস্যদের একটি দল ৩ দিনের জামাতে অংশ নেবে। এই সময়কে কাজে লাগানো হবে মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য, যা ভবিষ্যতে সংগঠনের সামাজিক কাজকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন দায়িত্বশীলরা।
এছাড়া শীতের কঠিন পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষ যেন কষ্টে না থাকে, এই চিন্তা থেকেই নেওয়া হয়েছে ৫ই ডিসেম্বর আটটি গ্রামে কম্বল বিতরণের সিদ্ধান্ত। মহেশকোনা, চল্লিশা ও আশপাশের গ্রামের মানুষের কাছে এই উদ্যোগটি বিশেষ স্বস্তি বয়ে আনবে বলে উপস্থিত সদস্য ও স্থানীয়রা মত প্রকাশ করেন।
সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে বেশ কয়েকটি পদে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। অনুষ্ঠান ও আয়োজক সম্পাদক পদে তারেক ও ফাহাদ,
যোগাযোগ সম্পাদক পদে,আশিক এবং হাফেজ মোঃ আকাশ, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক পদ হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ইব্রাহিম। রক্তদান সম্পাদক পদে হাফেজ মাওলানা সাকিব বিন ইদ্রিস, এবং প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রবাসী মিলন।
এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহদি হাসান (মুন্না), কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ দেলোয়ার, সহকারী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদ, সহকারী মহাসচিব নাজমুল হক সাগর, সমাজসেবা সম্পাদক ঝিলন, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মোসাররফসহ আরও অনেকে।
বৈঠক শেষে তারা জানান, সমাজ পরিবর্তন শুধু স্লোগানে নয়—প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ, মানুষের পাশে দাঁড়ানো, এবং তরুণদের সৎ পথে তুলে নেওয়ার মাধ্যমেই তা বাস্তবায়ন সম্ভব।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহদি হাসান মুন্না জানান, আবাবিল ইসলামী যুব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে৷ রক্তদান, খাদ্য সহযোগিতা, শীতবস্ত্র বিতরণ, দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিকতা বৃদ্ধির ক্লাস, কোরআন শিক্ষা সহ নানা উদ্যোগ গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়া দিন। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা শুধু সমাজ সেবাই করছে না, পাশাপাশি তৈরি করছে একদল দায়িত্বশীল তরুণ।
তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী গ্রামগুলোতে যুবকদের মধ্যে নৈতিকতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার যে আলো ছড়িয়ে পড়ছে, তা স্থানীয় মানুষের মধ্যে এক নতুন আশার সঞ্চার করছে। এই বৈঠক সংগঠনটির তরুণদের মনোবল ও উদ্যমকে আরও দৃঢ় করেছে। শীতবস্ত্র বিতরণ, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব সব মিলিয়ে তারা এখন একটি সুসংগঠিত ও পরিপূর্ণ পরিকল্পনা হাতে নিয়ে সমাজসেবার নতুন পথে এগোতে প্রস্তুত হচ্ছে।
দ্বীনি, সামাজিক ও অরাজনৈতিক পরিচয়ের এই সংগঠনটি বিশ্বাস করে,তরুণরাই সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি, আর সৎ উদ্দেশ্য থাকলে ছোট কাজও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


















