
তপু রায়হান রাব্বি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে প্রধান সড়কটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একদিকে বর্ষার প্রবল বৃষ্টি, অন্যদিকে নদীর তীব্র স্রোত—এই দুইয়ে মিলে এলাকাবাসীর ভরসার একমাত্র রাস্তাটির অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।
পুটিয়া বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত যাতায়াত সমস্যায় ভোগছে। পৌরসভার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ফলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য ঠিকমতো বাজারজাত করা যাচ্ছে না, আর শিক্ষার্থীদের উচ্চতর শিক্ষার জন্য শহরে যেতে হলে পরিবারসহ ভাড়া বাসায় গিয়ে থাকতে হচ্ছে।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় কাবিটা কর্মসূচির মাধ্যমে বাইরাখালী ব্রিজ থেকে পুটিয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে প্রায় ১৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৫৬ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে পি.আই.ও অফিস থেকে ৬৬১ মিটার, এলজিইডি থেকে ৩০০ মিটার এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৮০ মিটার রাস্তা ইটের সলিং এবং মাটি ভরাট করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পের কাজ শুরু হতেই বৃষ্টিতে মাটির কাজ ধসে পড়ে। অনেক জায়গায় ইটের সলিং ঠিকমতো পৌঁছায়নি বাজার পর্যন্ত। কিছু অংশ আবার আগের মতোই কাঁচা পড়ে আছে। নদী ঘেঁষা হওয়ায় প্রতিবছরই বরাদ্দ আসছে, কাজও হচ্ছে, কিন্তু টেকসই হচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তায় আমরা প্রতিদিন চলি। রাস্তার পাশে নদী থাকায় বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকি। সরকার প্রতিবছর টাকা খরচ করে কিন্তু কাজ টেকে না। আগে বাঁধ চাই, পরে রাস্তা।”
এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা বলেন, “রাস্তার প্রকল্পের প্রতিটি কাজ তদারকি করা হচ্ছে। ছবিসহ প্রতিবেদন পাঠিয়ে বিল করা হয়। কোনো অনিয়ম পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুটিয়ার সড়কটির একটি অংশ বৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। বাকি অংশের কাজও দ্রুতই সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাস্তাটির পাশ দিয়ে নদী যাওয়ায় প্রায় ৯০ শতাংশ ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। তাই আগে বাঁধ নির্মাণ, তারপর রাস্তা করা হলে সেটি হবে টেকসই। এ বিষয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করছি।”
পুটিয়া গ্রামের বাসিন্দারা জানানা,শুধু কাগজে-কলমে কাজ নয়, বাস্তবভিত্তিক ও স্থায়ী সমাধান চাই। টেকসই বাঁধ ছাড়া আর কোনো উন্নয়নই এখানে দীর্ঘস্থায়ী হবে না। নইলে বছরের পর বছর বাজেট এলেও সাধারণ মানুষের কষ্ট থেকে যাবে একই জায়গায়।






















