
মোঃ আব্দুল হক লিটনঃ
শিক্ষকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি এক আজীবনের সাধনা। এমনই এক সাধকের নাম মোঃ আনিসুর রহমান, যিনি ৩২ বছর ৪ মাস ধরে আলোকিত করেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন তিনি, তবে বিদায়টা ছিল একেবারে ব্যতিক্রমী ও স্মরণীয়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ময়মনসিংহ সদরের সাহেব কাচারী লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। হাতে ফুল ও সংবর্ধনা ক্রেস্ট নিয়ে সবার চোখেমুখে ফুটে উঠেছিল আনন্দের সঙ্গে এক অদৃশ্য বেদনার ছোঁয়া। কারণ, আজ তাঁদের প্রিয় শিক্ষক আনিসুর রহমানের বিদায়।
সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী নোমান ইবনে লতিফ ও সাইফুর রহমান সোহাগ। এ সময় প্রাক্তন শিক্ষার্থী মহসিন আলম, আসাদুজ্জামান রিপন, হারুন অর রশিদ, ও শিক্ষক মোঃ সোরহাব হোসেন আকন্দ সহ অন্যান্য প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আনিসুর রহমান স্যার আমাদের জীবনের প্রেরণার বাতিঘর। বিদ্যালয়ের প্রতিটি প্রান্তে, প্রতিটি পাঠশালার ঘরে তাঁর অবদান চিরদিন ছাপ রেখেছে। শুধু পাঠদান করাই নয়, তিনি ছিলেন একজন কঠোর শিক্ষক, কিন্তু সেই কঠোরতার মধ্যেও ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা, দয়া ও যত্নের ছোঁয়া। আমাদের জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর অনবদ্য পরিশ্রম, দিকনির্দেশনা ও শিক্ষা। তিনি একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শ মানুষ, যার মতো শিক্ষক আজকাল খুব কম দেখা যায়। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে, এবং আমরা সবাই তাঁর জন্য কৃতজ্ঞ ও গর্বিত।”
সবশেষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এক হৃদয়স্পর্শী আয়োজন করেন। বিদ্যালয়ের আঙিনায় থেকে শুরু করে প্রিয় শিক্ষকের বাড়ি পর্যন্ত পথজুড়ে ছিল এক আবেগঘন স্রোত। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা ফুলে ভরা ঘোড়ার গাড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে, হাত নেড়ে, ফুল ছিটিয়ে স্যারের প্রতি শেষ ভালোবাসা জানাচ্ছিলেন। কেউ কাঁদছিল, কেউ উৎসাহের সঙ্গে বিদায় জানাচ্ছিল। প্রতিটি মোড়ে অপেক্ষা করছিল প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা, যেন প্রতিটি মুহূর্তে তাঁকে জানানো হচ্ছে, স্যার, আপনার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে।
রাস্তা জুড়ে শুভেচ্ছা বার্তায় সজ্জিত পরিবেশে আবেশ এবং সম্মানের ছোঁয়া প্রতিটি চোখে-মুখে ফুটে উঠছিল। এই দৃশ্য শুধু একটি বিদায় নয়, বরং প্রিয় শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীদের গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং কৃতজ্ঞতার প্রতিফলন।
প্রতিটি ধাপ, প্রতিটি মুহূর্ত যেন তৈরি করছিল এক চিরস্মরণীয় স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা, যা এই বিদ্যালয়ের ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায়ী শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় আমার প্রাণ। শিক্ষার্থীদের এমন ভালোবাসা পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ ও গর্বিত। তাদের এই স্নেহই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার।






















